বিষয়বস্তুতে চলুন

ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার

উইকিঅভিধান, মুক্ত অভিধান থেকে

শেখ হাসিনার বক্তব‍্য শুনেছি পুরোটাই । এই প্রথম সে ভুলে একবারও BNP- জামায়াতকে দোষ দেয়নি ।সব দোষ ও ক্ষোভ ড. ইউনুসের উপর ।

কারন জানেন? শুনুন তাহলে——-

“আওয়ামী লীগকে যদি কেউ এখন প্রস্তাব দেয়, যে ড. ইউনুসকে হটিয়ে জামায়াতকে ক্ষমতায় বসানো হবে- তোমরা রাজী? আওয়ামী লীগ আলহামদুলিল্লাহ পড়ে তৎক্ষনাৎ রাজী হয়ে জামাতের পাঁ চাটা শুরু করে দিবে। আর বিএনপি হলে তো কথাই নেই। নাচতে নাচতে রাজী হয়ে বি.এন.পির নুনটুর মধ্যেও চুমু খাবে।

আওয়ামী লীগের আসল যম হলেন ড. ইউনূস।

কেন সেটা বলছি।

জামায়াত বা বিএনপি ক্ষমতায় থাকলে আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীকে হয়তো পুলিশ দিয়ে বা দলের কর্মীদের দিয়ে সাইজ করতে পারবে। ভয়ভীতি দেখাতে পারবে। বিচারও কিছু হবে। কিন্তু আওয়ামী লীগ সেগুলোকে পলিটিক্যালি ক্যাশ করবে। সবকিছুকে তারা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে চালাবে, বিশ্বের মানুষকে খাওয়ানোর চেষ্টা করবে।

কিন্তু ড. ইউনূস আওয়ামী লীগকে শুধু পলিটিক্যালি না, একাডেমিক্যালি খেয়ে ফেলবেন। ড. ইউনূস যতদিন আছেন, সারাবিশ্বের সরকারগুলো জানবে আওয়ামী লীগ কোনো পলিটিকাল পার্টি না, এইটা একটা ফ্যাসিজম। সবাই এটাকে তুলনা করবে হিটলার মুসোলিনির সাথে।

ইউনিভার্সিটি গুলোতে বাংলাদেশের এই ফ্যাসিবাদ নিয়ে গবেষণা হবে। এই গনহত্যা নিয়ে গবেষণা হবে। ড. ইউনূস অলরেডি বিশ্বের বিভিন্ন ইউনিভার্সিটিগুলোকে আহবান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের এই ফ্যাসিবাদ নিয়ে গবেষণার জন্য।

ড. ইউনূস একাডেমিকালি আওয়ামী লীগকে যে গর্তে নিয়ে ফেলবেন, সেইখান থেকে তার আর বেরিয়ে আসা সম্ভব হবে না।

ড. ইউনূস যতদিন আছেন, পৃথিবীর কোথাও আওয়ামী লীগের পক্ষে কারো কথা বলারও সুযোগ হবেনা। ড. ইউনূসের একটা স্টেটমেন্টে তাদের লাখ লাখ ডলারের লবিং ব্যর্থ হয়ে যাবে। ড. ইউনূস বাংলাদেশের জন্য মনে করেন একজন সোনার হরিনের মতো। আর আওয়ামীলীগ এবং ভারতের জন্য তিনি গলায় বিষের কাঁটার মত বেঁধে থাকবেন। তিনি যতদিন বাংলাদেশের সরকারের দায়িত্বে বহাল থাকবেন, ততদিন তিনি ভারতের সামনে একজন পারমাণবিম বোমা এবং আয়রন ডোমের ভূমিকায় বাংলাদেশের জন্য ঢাল হয়ে থাকবেন।

আওয়ামী লীগের বেচে থাকার একমাত্র উপায়, যত তাড়াতাড়ি পারা যায় ড. ইউনূসকে বিদায় করে বিএনপি বা জামায়াতকে ক্ষমতায় বসানো!!! এজন্যেই তাদেরকে এখন বিএনপি জামায়াত কারো বিরুদ্ধে অতটা সোচ্চার দেখা যায় না, যতটা তারা ইউনূসের ব্যাপারে উচ্চকণ্ঠ!! মাঝে মাঝে তো বিএনপির সাথে একমত হতেও দেখা যায়!!

রবিন রুবেল

বাংলা

[সম্পাদনা]

ভাবার্থ

[সম্পাদনা]

ব্যুৎপত্তি ও প্রয়োগ

[সম্পাদনা]

নিধিরাম বা আন্দিরাম নামে এক ব্যক্তি নিজেকে বলবান ও পালোয়ান দলের সাহসী সর্দার বলে জাহির করতো। অনেকে তা বিশ্বাসও করতো। একদিন তাদের গ্রামে ডাকাতি হয়ে গেল। নিধিরামের মতো উপযুক্ত লোক থাকতে এ রকম ডাকাতি হয়ে যাওয়ায় কিছু মানুষের মনে প্রশ্ন দেখা দিল। নিধিরামকে তারা জিজ্ঞেস করলো, 'কি হে সর্দার, তুমি গ্রামে থাকতে এমন ডাকাতি হয়ে গেল আর তুমি পালোয়ান হয়ে কিছুই করতে পারলে না?' নিধিরাম ক্ষোভের সাথে উত্তর দিল; 'কি যে বল ভাই। আমার হাতে ঢাল-তলোয়ার থাকলে দেখে নিতাম ব্যাটারা কতো বড় ডাকাত।' বড় নাম বা বড় কাজের উপযোগী স্থানে আসীন কিংবা আস্ফালনকারী কোনো ব্যক্তি যদি যথাযথভাবে কাজ না করে কিংবা তার কাছে যদি পদের বা নামের পক্ষে উপযুক্ত কাজ পাওয়া না যায় তবে মানুষ এই প্রবাদ বাক্যটি প্রয়োগ করে থাকে। মজার ব্যাপার এই যে, আজকাল আমাদের সমাজে এ ধরনের অনুপযুক্ত নিধিরাম বা আন্দিরামের সংখ্যা অনেক বেশি। তারা সুযোগ ও সহায়তা না পাওয়ায় আসল কাজ করতে পারছে না বলে অহরহ অজুহাত দেখায়। নিজেদের অযোগ্যতাকে ঢাকে কৌশলে, কথার মারপ্যাচে। প্রবাদ কথাটি ব্যঙ্গার্থে ব্যবহৃত হয়।