হৃদ্যমুদ্রা
অবয়ব
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]“হৃদ্যমুদ্রা” শব্দটি গঠিত হয়েছে দুইটি সংস্কৃত উৎসজাত শব্দ থেকে “হৃদ্য” এবং “মুদ্রা”। “হৃদ্য” শব্দটি এসেছে সংস্কৃত “हृद्य” থেকে, যার অর্থ ‘হৃদয়গ্রাহী’, ‘মনোহর’, বা ‘আকর্ষণীয়’ যা হৃদয়কে ছুঁয়ে যায় বা প্রীতিকর। “মুদ্রা” এসেছে সংস্কৃত “मुद्रा” থেকে, যার আভিধানিক অর্থ হল ‘চিহ্ন’, ‘ভঙ্গি’, ‘অভিব্যক্তি’ বা ‘হস্তমুদ্রা’। এই দুটি শব্দের সমন্বয়ে “হৃদ্যমুদ্রা” অর্থ দাঁড়ায় হৃদয় থেকে উৎসারিত কোনো অভিব্যক্তি, ভঙ্গি বা চিহ্ন, যা আন্তরিকতা, প্রীতি, বা আত্মিক উপলব্ধির প্রতীক।
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]হৃদ্যমুদ্রা
- (যোগ ও আধ্যাত্মিক প্রয়োগে) এক ধরনের হস্তমুদ্রা বা মানসিক ভঙ্গি, যা হৃদয়কেন্দ্রিক অনুভবকে প্রকাশ করে।
- (রূপক) এমন অভিব্যক্তি, যা গভীর আন্তরিকতা, মমতা, বা প্রেমের প্রতিচ্ছবি বহন করে।
- (সাহিত্যিক) হৃদয়ের গোপন অনুভূতির প্রতীকী প্রকাশ—চোখের ভাষা, স্পর্শ বা মৌনতার মধ্যেও এটি ব্যক্ত হতে পারে।
উদাহরণ
[সম্পাদনা]- গুরু শিষ্যকে হৃদ্যমুদ্রায় আশীর্বাদ করলেন।
- তার মুখে ছিল এমন এক হৃদ্যমুদ্রা, যা কথারও অধিক বলেছিল।
- প্রেমিক-প্রেমিকার চোখে চোখ রাখা যেন এক নীরব হৃদ্যমুদ্রা।
সমার্থক
[সম্পাদনা]- হৃদয়ভঙ্গি
- আন্তরিক অভিব্যক্তি
- প্রেম-চিহ্ন
বিপরীত শব্দ
[সম্পাদনা]- নিরাসক্ততা
- শুষ্কতা
- কঠোর অভিব্যক্তি
উদ্ভূত
[সম্পাদনা]- “হৃদ্য” (সংস্কৃত) = হৃদয়গ্রাহী, প্রীতিকর
- “মুদ্রা” (সংস্কৃত) = চিহ্ন, ভঙ্গি, অভিব্যক্তি
ছোট ব্যাখ্যা
[সম্পাদনা]“হৃদ্যমুদ্রা” হলো এমন এক গভীর অন্তর্লীন প্রকাশ, যা শব্দের বাহ্য রূপ অতিক্রম করে হৃদয়কে ছুঁয়ে যায়। এটি চোখ, মুখাবয়ব, স্পর্শ বা নীরবতার মধ্য দিয়ে আত্মার সংলাপের রূপ লাভ করে, তাই এর সৌন্দর্য ব্যাখ্যার চেয়ে অনুভবযোগ্য।