সম্মানজনক
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]"সম্মানজনক" শব্দটি সংস্কৃত "সম্মান" (শ্রদ্ধা বা মর্যাদা) এবং "জনক" (কর্তা বা প্রদানকারী) থেকে গঠিত একটি বিশেষণ। "সম্মান" শব্দটি "সম" (সঙ্গে) এবং "মান" (মর্যাদা) থেকে উদ্ভূত, যা সমাজে শ্রদ্ধা বা গৌরব নির্দেশ করে, এবং "জনক" এর সাথে যুক্ত হয়ে এটি এই গুণ ধারণকারীকে বোঝায়। বাংলায় এটি ব্যক্তিত্ব বা আচরণে সম্মানজনক ভাব প্রকাশ করে।[১]
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: শ-অ-ম-অ-ন-ঝ-অ-ন-অ-ক (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত শ, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ম, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ন, সংক্ষিপ্ত ঝ, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ন, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ক)। শব্দটির উচ্চারণে দশটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের দশস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে সব স্বর সংক্ষিপ্ত।
- বানান: স-ম-মা-ন-জ-ন-ক। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "সম্মান" মূল শব্দ এবং "জনক" প্রত্যয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[২]
বিশেষণ
[সম্পাদনা]সম্মানজনক (তুলনাবাচক আরও সম্মানজনক, অতিশয়ার্থবাচক সবচেয়ে সম্মানজনক)
- মর্যাদাপূর্ণ: কোনো ব্যক্তি বা আচরণ যা সম্মান ও শোভা প্রকাশ করে।
- উদাহরণ: তিনি একটি সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত।
- উদাহরণ: তার সম্মানজনক আচরণ সবার প্রশংসা পায়।
- উদাহরণ: এই সিদ্ধান্তটি সম্মানজনক মনে হয়।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"সম্মানজনক" শব্দটি বাংলা সংস্কৃতিতে সমাজে শ্রদ্ধা ও মর্যাদার একটি উচ্চ মান নির্দেশ করে, যা প্রায়ই ব্যক্তিগত আচরণ, পেশা বা সামাজিক অবস্থানের সাথে যুক্ত। এটি সম্মানের প্রতি আকর্ষণ ও সমাজে গৌরব বজায় রাখার প্রতিফলন। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, এই গুণটি চরিত্রের মহত্ত্ব প্রকাশে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি পেশাগত ও ব্যক্তিগত জীবনে সম্মানের মাপকাঠি হিসেবে গণ্য হয়।[৩]
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]শ্রদ্ধেয় বা মর্যাদাপূর্ণ
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
- বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, শেষের কবিতা, কলকাতা, ১৯২৮।