বিষয়বস্তুতে চলুন

সংশ্লিষ্টতা

উইকিঅভিধান, মুক্ত অভিধান থেকে

বাংলা

[সম্পাদনা]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

"সংশ্লিষ্টতা" শব্দটি সংস্কৃত "সংশ্লিষ্ট" (সংযুক্ত বা সম্পর্কিত) থেকে উদ্ভূত, যার সাথে "তা" প্রত্যয় যোগ হয়ে বিশেষ্য রূপে গঠিত হয়েছে। "সং" উপসর্গটি একত্রকরণ বা সমাবেশ নির্দেশ করে, এবং "শ্লিষ্ট" (জড়িত বা সংযুক্ত) শব্দের সাথে মিলে এর আক্ষরিক অর্থ হলো "সম্পর্কিত হওয়ার অবস্থা"। বাংলা ভাষায় এটি বিভিন্ন প্রেক্ষাপটে সম্পর্ক, সংযোগ বা প্রাসঙ্গিকতা বোঝায়।[]

উচ্চারণ

[সম্পাদনা]
  • ছন্দ: স-অ-ই-অ-আ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত স, দীর্ঘ অ, দীর্ঘ ই, সংক্ষিপ্ত অ, দীর্ঘ আ)। শব্দটির উচ্চারণে পাঁচটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যেখানে প্রথম স্বর সংক্ষিপ্ত, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্বর দীর্ঘ, চতুর্থ স্বর সংক্ষিপ্ত, এবং পঞ্চম স্বর দীর্ঘ। এটি বাংলা শব্দের পঞ্চস্বরিক ছন্দ প্রদর্শন করে।
  • বানান: স-ং-শ্-লি-ষ্-ট-তা। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "ং" নাসিক্য ধ্বনি, "শ্" ও "ষ্" যুক্তাক্ষরে বিভক্ত, এবং "তা" স্বাধীন অক্ষর। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[]

বিশেষ্য

[সম্পাদনা]

সংশ্লিষ্টতা

  1. সম্পর্ক বা সংযোগের অবস্থা: কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়ের সাথে প্রাসঙ্গিকতা বা যোগসূত্র।
    • উদাহরণ: এই বিষয়ে তার সংশ্লিষ্টতা সকলের কাছে স্বীকৃত।
    • উদাহরণ: পরিবারের সাথে তার গভীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
    • উদাহরণ: ঐতিহাসিক ঘটনার সাথে এই স্থানের সংশ্লিষ্টতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিস্তারিত তথ্য

[সম্পাদনা]

"সংশ্লিষ্টতা" শব্দটি কোনো বিষয় বা ব্যক্তির মধ্যে সম্পর্ক বা প্রাসঙ্গিকতা নির্দেশ করে, যা সামাজিক, বৈজ্ঞানিক বা সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়। এটি প্রায়ই আইনি, শিক্ষাগত বা ব্যক্তিগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, এই শব্দটি মানব সম্পর্কের গভীরতা ও একতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখিত হয়। আধুনিক ব্যবহারে, এটি কোনো প্রকল্প বা আলোচনার সাথে সরাসরি যোগাযোগের অর্থেও প্রয়োগ করা হয়।[]

সমার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

বিপরীতার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

সম্পর্কিত শব্দ

[সম্পাদনা]

সম্পর্ক বা সংযোগের অবস্থা

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  • সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
  • বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গীতবিতান, কলকাতা, ১৯৩৬।
  1. সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা ৪৫৬
  2. বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, পৃষ্ঠা ৩৯৮
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গীতবিতান, পৃষ্ঠা ১২৩