বিষয়বস্তুতে চলুন

শ্রমবিমুখীনতা

উইকিঅভিধান, মুক্ত অভিধান থেকে

বাংলা

[সম্পাদনা]

উচ্চারণ

[সম্পাদনা]
  • আধ্বব(চাবি): /srom.bi.mukʰi.no.t̪a/
  • ছন্দ: শ-র-অ-ম-অ-বি-ম-উ-খী-ন-অ-ত-অ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত শ, সংক্ষিপ্ত র, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ম, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত বি, সংক্ষিপ্ত ম, দীর্ঘ উ, সংক্ষিপ্ত খী, সংক্ষিপ্ত ন, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ত, সংক্ষিপ্ত অ)। শব্দটির উচ্চারণে তেরোটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের ত্রয়োদশস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে "উ" ও "খী" দীর্ঘ স্বর হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
  • বানান: শ-র-ম-বি-মু-খী-ন-তা। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "শ্রম" মূল শব্দ, "বিমুখী" উপসর্গ, এবং "নতা" প্রত্যয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[]

বিশেষ্য

[সম্পাদনা]

শ্রমবিমুখীনতা

  1. পরিশ্রম বা শ্রম-এর প্রতি বিতৃষ্ণা বা বিরাগ; কাজকর্মে অনীহা বা উদাসীনতা
    লেখকের বর্ণনায় চরিত্রটির শ্রমবিমুখীনতা স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

এটি একটি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ। শব্দটি শ্রমবিমুখ শব্দের সঙ্গে ঈন-তা প্রত্যয় যোগে গঠিত হয়েছে: শ্রমবিমুখ + ঈন + -তা

  • শ্রমবিমুখ – যিনি শ্রম থেকে মুখ ফিরিয়ে নেন।
  • -ঈন – 'সম্বন্ধীয়' বা 'যুক্ত' অর্থে ব্যবহৃত একটি প্রত্যয়, যা এখানে বিশেষণ পদ (`শ্রমবিমুখীন`) গঠন করে।
  • -তা – ভাব বা অবস্থা নির্দেশক ভাববাচক প্রত্যয়।

সুতরাং, শব্দটির পূর্ণাঙ্গ অর্থ হলো "শ্রমবিমুখীন (শ্রমবিমুখ স্বভাবযুক্ত) হওয়ার ভাব বা অবস্থা"।

ব্যাকরণগত শ্রেণীবিন্যাস

[সম্পাদনা]
  • পদ: বিশেষ্য।
  • শ্রেণি: ভাববাচক বিশেষ্য (Abstract Noun)।
  • লিঙ্গ: ক্লীবলিঙ্গ।
  • বচন: শব্দটি শুধুমাত্র একবচনে ব্যবহৃত হয়।
  • গঠন: প্রত্যয়সাধিত শব্দ।

বাক্যে প্রয়োগ

[সম্পাদনা]
  1. সমাজের এই শ্রমবিমুখীনতা দূর করতে না পারলে সামগ্রিক উন্নয়ন অসম্ভব।
  2. তাঁর মধ্যে এক প্রকার দার্শনিক শ্রমবিমুখীনতা ছিল, তিনি জাগতিক কাজকর্ম এড়িয়ে চলতেন।

বিস্তারিত তথ্য

[সম্পাদনা]

"শ্রমবিমুখীনতা" শব্দটি শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রমে অংশগ্রহণে অনিচ্ছার একটি গভীর প্রকৃতি নির্দেশ করে, যা প্রায়ই সামাজিক, শিক্ষাগত এবং অর্থনৈতিক কারণে প্রভাবিত হয়। বাংলা সাহিত্যে এটি অলসতা বা নৈতিক দুর্বলতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখিত হয়, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়। আধুনিক সমাজে, এটি বেকারত্ব, উৎপাদনশীলতার হ্রাস, এবং কর্মসংস্কৃতির দুর্বলতার সাথে যুক্ত।[]

"শ্রমবিমুখীনতা" এবং "শ্রমবিমুখত্ব" শব্দ দুটি সম্পূর্ণ সমার্থক এবং একই ভাব প্রকাশ করে। তবে, আধুনিক বাংলা গদ্যে "শ্রমবিমুখত্ব" শব্দটিই অধিকতর প্রচলিত ও বহুল ব্যবহৃত। "শ্রমবিমুখীনতা" শব্দটির ব্যবহার তুলনামূলকভাবে কম এবং এটি মূলত সাহিত্যিক বা আলঙ্কারিক প্রয়োগে সীমাবদ্ধ।

প্রতিশব্দ

[সম্পাদনা]

বিপরীতার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

সম্পর্কিত শব্দ

[সম্পাদনা]

পরিশ্রমের প্রতি অনীহা

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]

বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান ২০১৫, বাংলা একাডেমি এই অভিধানে 'শ্রমবিমুখত্ব' ভুক্তি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত, 'শ্রমবিমুখীনতা' এর একটি অপ্রচলিত রূপ হিসেবে বিবেচিত।

  • সংস্কৃত-বাংলা অভিধান (২০১৯) সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়, page ৭৯০
  • বাংলা একাডেমি (২০১৫) বাংলা একাডেমী ব্যবহারিক বাংলা অভিধান, বাংলা একাডেমি, page ১২৫২
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (১৯৩৯) রবীন্দ্ররচনাবলী, বিশ্বভারতী, page ৪৫৮

আরও দেখুন

[সম্পাদনা]
  1. বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, পৃষ্ঠা ৬৩৫
  2. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্ররচনাবলী, পৃষ্ঠা ৪৫৮