শ্রমবিমুখতা
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]"শ্রমবিমুখতা" শব্দটি সংস্কৃত "শ্রম" (পরিশ্রম বা কাজ) এবং "বিমুখ" (মুখ ফিরানো বা অনাগ্রহী) থেকে গঠিত, যার সাথে "তা" প্রত্যয় যোগ হয়ে বিশেষ্য রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। "বি" উপসর্গটি বিপরীতত্ব নির্দেশ করলেও, "মুখ" এর সাথে মিলে "বিমুখ" শব্দটি অপছন্দ বা অনীহা প্রকাশ করে। বাংলায় এটি শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রমে অনাগ্রহের অবস্থা বোঝায়।[১]
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: শ-অ-অ-ই-উ-ই-আ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত শ, দীর্ঘ অ, সংক্ষিপ্ত অ, দীর্ঘ ই, সংক্ষিপ্ত উ, দীর্ঘ ই, দীর্ঘ আ)। শব্দটির উচ্চারণে সাতটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের সপ্তস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে স্বরগুলোর সংক্ষিপ্ততা ও দীর্ঘতা নিয়মিতভাবে বিন্যস্ত।
- বানান: শ-্র-ম-বি-মু-খ-তা। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "শ্র" যুক্তাক্ষর, "মু" ও "খ" পৃথক অক্ষর, এবং "তা" স্বাধীন অক্ষর। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[২]
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]শ্রমবিমুখতা
- পরিশ্রমে অনাগ্রহ বা আলস্যের অবস্থা: শারীরিক বা মানসিক শ্রমে অরুচি বা নিষ্ক্রিয়তা।
- উদাহরণ: তার শ্রমবিমুখতা কাজে বাধা সৃষ্টি করেছে।
- উদাহরণ: গ্রামে শ্রমবিমুখতার কারণে উৎপাদন কমে গেছে।
- উদাহরণ: যুবকদের মধ্যে শ্রমবিমুখতা চিন্তার বিষয়।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"শ্রমবিমুখতা" শব্দটি শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রমে অরুচি বা নিষ্ক্রিয়তা নির্দেশ করে, যা প্রায়ই সমাজে অর্থনৈতিক উন্নতির বাধা হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলা সাহিত্যে এই শব্দটি কখনো কখনো নৈতিক দুর্বলতা বা আলস্যের প্রতীক হিসেবে উল্লেখিত হয়। আধুনিক কনটেক্সটে, এটি শিক্ষিত সমাজে কর্মবিরতির সাথে যুক্ত হতে পারে বা প্রযুক্তির ওপর নির্ভরশীলতার ফলে শ্রমে অনীহার প্রতিফলন হিসেবে দেখা যায়।[৩]
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]পরিশ্রমে অনাগ্রহ বা আলস্যের অবস্থা
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
- বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, সাধনা, কলকাতা, ১৯১৩।