শ্রমপ্রবণতা
বাংলা
[সম্পাদনা]উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- আধ্বব(চাবি): /srom.pro.bo.no.t̪a/
- ছন্দ: শ-র-অ-ম-অ-প-র-অ-ব-অ-ন-অ-ত-অ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত শ, সংক্ষিপ্ত র, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ম, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত প, সংক্ষিপ্ত র, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ব, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ন, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ত, সংক্ষিপ্ত অ)। শব্দটির উচ্চারণে চোদ্দোটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের চতুর্দশস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে সব স্বর সংক্ষিপ্ত।
- বানান: শ-র-ম-প-র-ব-ন-তা। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "শ্রম" মূল শব্দ এবং "প্রবণতা" প্রত্যয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[১]
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]শ্রমপ্রবণতা
- পরিশ্রম বা শ্রম-এর প্রতি স্বাভাবিক আগ্রহ, ঝোঁক বা আসক্তি; কাজ করার মানসিক প্রবণতা।
- জাপানিদের সহজাত শ্রমপ্রবণতা তাদের জাতীয় উন্নতির অন্যতম কারণ।
ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]এটি একটি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ। শব্দটি শ্রম + প্রবণ + -তা (প্রত্যয়) যোগে গঠিত হয়েছে।
- শ্রম (√শ্রম্ + অ) – শারীরিক বা মানসিক আয়াস, পরিশ্রম।
- প্রবণ (প্র- + √বন্ + অ) – নত, ঝোঁকযুক্ত, আসক্ত।
- -তা – ভাব বা অবস্থা নির্দেশক ভাববাচক প্রত্যয়।
সুতরাং, শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হলো "শ্রমের প্রতি ঝোঁক বা আসক্তি থাকার ভাব"। [২]
শব্দটি "শ্রম" (পরিশ্রম) এবং "প্রবণতা" (ঝোঁক বা আকর্ষণ) শব্দের সমন্বয়ে গঠিত। "শ্রম" সংস্কৃত "√শ্রম্" ধাতু থেকে এসেছে, যা শক্তিসাধ্য কাজ বোঝায়। "প্রবণতা" "প্র" (অগ্রগতি) ও "বণ" (ঝোঁক) থেকে তৈরি, যা শ্রমের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ নির্দেশ করে। এই শব্দটি শ্রমে নিযুক্ত থাকার গুণ বা প্রকৃতিকে প্রকাশ করে।[৩]
ব্যাকরণগত শ্রেণীবিন্যাস
[সম্পাদনা]- পদ: বিশেষ্য।
- শ্রেণি: ভাববাচক বিশেষ্য (Abstract Noun)।
- লিঙ্গ: ক্লীবলিঙ্গ।
- বচন: শব্দটি শুধুমাত্র একবচনে ব্যবহৃত হয়।
- গঠন: প্রত্যয়সাধিত শব্দ।
সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]বাঙালি এবং ভারতীয় উপমহাদেশীয় সংস্কৃতিতে শ্রমপ্রবণতা-কে অত্যন্ত ইতিবাচক গুণ হিসেবে দেখা হয়। এটি ব্যক্তিগত ও জাতীয় উন্নতির চাবিকাঠি হিসেবে বিবেচিত এবং প্রায়শই কর্মঠতা ও অধ্যবসায়ের সাথে প্রশংসিত হয়।
বাক্যে প্রয়োগ
[সম্পাদনা]- তরুণদের মধ্যে শ্রমপ্রবণতা জাগিয়ে তুলতে বৃত্তিমূলক শিক্ষার বিকল্প নেই।
- তাঁর চরিত্রের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো সততা এবং শ্রমপ্রবণতা।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"শ্রমপ্রবণতা" শব্দটি শারীরিক বা মানসিক পরিশ্রমে অংশগ্রহণের স্বাভাবিক ঝোঁক বা আগ্রহ নির্দেশ করে, যা সামাজিক উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রগতি এবং ব্যক্তিগত সফলতার সাথে যুক্ত। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, এটি জীবনের গতিশীলতা ও নৈতিক শক্তির প্রতীক হিসেবে উল্লেখিত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি শিক্ষা, কর্মসংস্কৃতি এবং উদ্যোগশীলতার সাথে সম্পর্কিত।[৪]
টীকা
[সম্পাদনা]"শ্রমপ্রবণতা", "শ্রমনিষ্ঠা" এবং "কর্মঠতা" শব্দগুলো প্রায় সমার্থক হলেও এদের মধ্যে অর্থের সূক্ষ্ম পার্থক্য রয়েছে। "শ্রমপ্রবণতা" বলতে বোঝায় শ্রমের প্রতি এক ধরনের স্বাভাবিক বা সহজাত ঝোঁক। অন্যদিকে, "শ্রমনিষ্ঠা" বলতে বোঝায় কর্তব্যের অংশ হিসেবে শ্রমের প্রতি একনিষ্ঠ বা নিবেদিত থাকা। প্রবণতা একটি মানসিক ঝোঁক, আর নিষ্ঠা একটি সচেতন অনুশীলন।
প্রতিশব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]পরিশ্রমের প্রতি আগ্রহ বা ঝোঁক