শীলধর
অবয়ব
বাংলা
[সম্পাদনা]উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: শী-ল-অ-ধ-অ-র (স্বরবিন্যাস: দীর্ঘ শী, সংক্ষিপ্ত ল, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ধ, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত র)। শব্দটির উচ্চারণে ছয়টি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের ষাটস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে "শী" দীর্ঘ স্বর হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- বানান: শ-ী-ল-ধ-অ-র। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "শীল" মূল শব্দ এবং "ধর" প্রত্যয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[১]
বিশেষণ
[সম্পাদনা]বিশেষ্য
[সম্পাদনা]শীলধর
ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]এটি একটি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ। শব্দটি শীল (বিশেষ্য) এবং ধর (কৃৎ প্রত্যয়) পদের সংযোগে গঠিত হয়েছে।
- শীল – সচ্চরিত্র, সদ্গুণ, নম্রতা।
- ধর – `√ধৃ` (ধারণ করা) ধাতু থেকে উৎপন্ন। এর অর্থ "ধারণকারী" বা "যিনি ধারণ করেন"।
ব্যাকরণগতভাবে এটি একটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস (ব্যাসবাক্য: `শীল ধারণ করে যে`)। [৩]
ব্যাকরণগত শ্রেণীবিন্যাস
[সম্পাদনা]- পদ: শব্দটি বিশেষণ এবং বিশেষ্য (নামবাচক) উভয় রূপেই ব্যবহৃত হয়।
- গঠন: সমাসবদ্ধ পদ।
- লিঙ্গ:
- বিশেষণ হিসেবে:** মূলত পুংলিঙ্গে ব্যবহৃত হয়, তবে লিঙ্গ নির্বিশেষে (`শীলধর ব্যক্তি`) প্রয়োগ করা যায়।
- বিশেষ্য (পদবি) হিসেবে:** লিঙ্গ নির্বিশেষে প্রযোজ্য।
ঐতিহাসিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
[সম্পাদনা]ঐতিহাসিকভাবে 'শীলধর' পদবিটি নির্দিষ্ট পেশাজীবী গোষ্ঠীর সাথে যুক্ত ছিল, যেমন কুম্ভকার (potter) ও নাপিত (barber) সম্প্রদায়। বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে এই পদবিটির উল্লেখযোগ্য ব্যবহার রয়েছে। বর্তমানে এটি পেশা-নিরপেক্ষ একটি সাধারণ পারিবারিক পদবি হিসেবেই ব্যবহৃত হয়।
বাক্যে প্রয়োগ
[সম্পাদনা]- বিশেষণ হিসেবে: তিনি একজন শীলধর ও জ্ঞানী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত।
- বিশেষ্য (পদবি) হিসেবে: আমাদের পাড়ার বিখ্যাত মিষ্টির দোকানটি শীলধর-দের।
প্রতিশব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]- (বিশেষণ অর্থে): দুশ্চরিত্র, চরিত্রহীন, অশিষ্ট
সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]
অর্থ
[সম্পাদনা]গুণ বা পদবি