বিযোগ
অবয়ব
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]"বিযোগ" শব্দটি সংস্কৃত "বিযোগ" (বিয়োগ বা বিচ্ছেদ) থেকে উদ্ভূত, যা "বি" (বিপরীত বা আলাদা) এবং "যোগ" (সংযোগ) থেকে গঠিত। এটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর সাথে সংযোগ ভঙ্গের অবস্থা বোঝায়। বাংলায় এটি প্রিয়জনের মৃত্যু বা বিচ্ছেদের কারণে উদিত হওয়া শোক বা দুঃখের প্রকাশ পায়।[১]
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: বি-অ-য-অ-গ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত বি, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত য, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত গ)। শব্দটির উচ্চারণে পাঁচটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের পঞ্চস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে সব স্বর সংক্ষিপ্ত।
- বানান: বি-য-োগ। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "বি" উপসর্গ, "যোগ" মূল শব্দ। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[২]
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]বিযোগ
- বিয়োগ বা শোক: প্রিয়জনের মৃত্যু বা বিচ্ছেদের কারণে উদিত হওয়া দুঃখ।
- উদাহরণ: তার বিযোগে পরিবার শোকে মগ্ন।
- উদাহরণ: বিযোগের বেদনা কথায় প্রকাশ করা যায় না।
- উদাহরণ: সে বিযোগের মধ্যে দিয়ে এখনও সামলাতে পারেনি।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"বিযোগ" শব্দটি বাংলায় গভীর মানসিক কষ্ট বা শোকের প্রতীক, যা সাধারণত প্রিয়জনের মৃত্যু বা সম্পর্কের ভঙ্গের সাথে যুক্ত। এটি বাংলা সংস্কৃতিতে শোকসভা বা শ্রাদ্ধ অনুষ্ঠানে উল্লেখযোগ্য। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, বিযোগ মানবিক সম্পর্কের তীব্রতা ও দুঃখের চিত্রণে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি ব্যক্তিগত ও সামাজিক ক্ষতির প্রকাশ হিসেবে গণ্য হয়।[৩]
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]বিয়োগ বা শোক
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
- বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাব্যগ্রন্থাবলী, কলকাতা, ১৯৩১।