বিষয়বস্তুতে চলুন

বিকাল-বেলা

উইকিঅভিধান, মুক্ত অভিধান থেকে

বাংলা

[সম্পাদনা]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

"বিকাল-বেলা" শব্দটি সংস্কৃত ও বাংলা মিশ্রণ থেকে গঠিত, যেখানে "বিকাল" (দ্বিতীয় প্রহর বা দুপুরের পরের সময়, সংস্কৃত "বিকালকাল" থেকে উদ্ভূত) এবং "বেলা" (সময় বা কাল) একত্রে ব্যবহৃত হয়। "বিকাল" শব্দটি দিনের মাঝামাঝি থেকে সন্ধ্যার পূর্বে সময় নির্দেশ করে, এবং "বেলা" এর সাথে সংযোগে নির্দিষ্ট সময়াংশ বোঝায়। বাংলায় এটি দুপুরের পরের শান্ত ও স্বচ্ছ আলোর সময়কে ব্যক্ত করে।[]

উচ্চারণ

[সম্পাদনা]
  • ছন্দ: বি-অ-ক-অ-ল-এ-ল-া (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত বি, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ক, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ল, দীর্ঘ এ, সংক্ষিপ্ত ল, দীর্ঘ আ)। শব্দটির উচ্চারণে আটটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের অষ্টস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে দীর্ঘ স্বরগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
  • বানান: বি-ক-া-ল-ব-ে-ল-া। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "বি" ও "ক" পৃথক অক্ষর, "ল" উচ্চারিত ধ্বনি, এবং "বেলা" দীর্ঘ স্বর সহ সংযুক্ত। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[]

বিশেষ্য

[সম্পাদনা]

বিকাল-বেলা

  1. দুপুরের পরের সময় বা বিকালকাল: দিনের মাঝামাঝি থেকে সন্ধ্যার পূর্বে শান্ত ও স্বচ্ছ আলোর সময়।
    • উদাহরণ: বিকাল-বেলায় গাছের পাতায় হাওয়া বইছে।
    • উদাহরণ: তিনি বিকাল-বেলায় চায়ের সাথে গল্প করেন।
    • উদাহরণ: বিকাল-বেলার আলোতে প্রকৃতি আরও সুন্দর লাগে।

বিস্তারিত তথ্য

[সম্পাদনা]

"বিকাল-বেলা" শব্দটি বাংলা জীবনে দিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়াংশ নির্দেশ করে, যা সাধারণত বেলা ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত বিস্তৃত। এই সময়টি দুপুরের তীব্রতা কমে আসা ও সন্ধ্যার শান্তির পূর্বাভাস হিসেবে গণ্য হয়। বাংলা সাহিত্যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায় এই সময়টি প্রকৃতির সৌন্দর্য ও মানুষের দৈনন্দিন কাজের পরিবর্তনের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখিত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি শহরে ব্যস্ততার পরে একটি স্বস্তির মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত।[]

সমার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

বিপরীতার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

সম্পর্কিত শব্দ

[সম্পাদনা]

দুপুরের পরের সময় বা বিকালকাল

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  • সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
  • বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চিত্রা, কলকাতা, ১৯০৩।
  1. সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা ১২৩
  2. বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, পৃষ্ঠা ৮৯
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, চিত্রা, পৃষ্ঠা ৭৫