পৃথকতা
অবয়ব
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]"পৃথকতা" শব্দটি সংস্কৃত "পৃথক" (বিভক্ত বা আলাদা) এবং "তা" (তত্ত্ব বা অবস্থা নির্দেশক প্রত্যয়) থেকে গঠিত একটি বিশেষ্য। "পৃথক" শব্দটি "পৃ" (পৃথিবী বা বিভাগ) এবং "থক" (অংশ) থেকে উদ্ভূত, যা কিছুকে আলাদা করার ক্রিয়া বোঝায়। বাংলায় এটি বস্তু, মানুষ বা ধারণার মধ্যে পার্থক্য বা দূরত্ব নির্দেশ করে।[১]
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: প-অ-থ-অ-ক-ত-অ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত প, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত থ, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ক, সংক্ষিপ্ত ত, সংক্ষিপ্ত অ)। শব্দটির উচ্চারণে সাতটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের সপ্তস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে সব স্বর সংক্ষিপ্ত।
- বানান: প-ঋ-থ-ক-তা। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "পৃ" দীর্ঘ স্বর, "থক" মূল শব্দ, এবং "তা" প্রত্যয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[২]
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]পৃথকতা
- আলাদাকরণ বা পার্থক্য: কোনো বস্তু, মানুষ বা ধারণার মধ্যে দূরত্ব বা ভিন্নতা।
- উদাহরণ: পৃথকতা সংসারে শান্তি ভঙ্গ করে।
- উদাহরণ: তাদের মধ্যে পৃথকতা দিন দিন বাড়ছে।
- উদাহরণ: এই দুটি ধারণার মধ্যে পৃথকতা স্পষ্ট।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"পৃথকতা" শব্দটি বাংলায় সম্পর্ক বা একত্বের অভাব নির্দেশ করে, যা সামাজিক, সাংস্কৃতিক বা বৈজ্ঞানিক প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়। এটি বিভিন্নতা বা দূরত্বের মাধ্যমে পরিচয় গঠনের প্রক্রিয়াকে প্রকাশ করে। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, পৃথকতা মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদের প্রতীক হিসেবে উল্লেখিত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি সামাজিক সমন্বয় বা বৈচিত্র্য বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ।[৩]
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]আলাদাকরণ বা পার্থক্য
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
- বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, ঘরে বাইরে, কলকাতা, ১৯১৬।