পায়রা
অবয়ব
বাংলা
[সম্পাদনা]
ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]সংস্কৃত পারাবত (pārāvata) শব্দ থেকে প্রাকৃত ভাষার মাধ্যমে বিবর্তিত হয়ে পায়রা শব্দটি তৈরি হয়েছে।
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- বানান – পায়-রা
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]- পাখিবিশেষ: কবুতর-এর একটি বহুল প্রচলিত সমার্থক শব্দ। এটি কলাম্বিডি (Columbidae) গোত্রের একটি জনপ্রিয় পাখি, যা বিশ্বজুড়ে শান্তি, ভালোবাসা ও বিশ্বস্ততার প্রতীক হিসেবে পরিচিত।
- উদাহরণ: আমাদের বাড়ির কার্নিশে একজোড়া পায়রা বাসা বেঁধেছে।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"পায়রা" এবং "কবুতর" মূলত একই পাখিকে (বৈজ্ঞানিক নাম: Columba livia domestica) বোঝায়। তবে "পায়রা" শব্দটি প্রায়শই বুনো বা জালালী কবুতর (Rock Dove) এবং গৃহপালিত উভয় প্রজাতিকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়। এরা মানুষের সান্নিধ্যে থাকতে ভালোবাসে এবং সহজেই পোষ মানে।
- প্রজাতিগত বৈচিত্র্য: পৃথিবীতে প্রায় ২০০-এর বেশি জাতের পায়রা রয়েছে। এদের মধ্যে গিরিবাজ, গোলা, লাক্ষা, সিরাজী, কিং, হোমার ইত্যাদি বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়।
- ঐতিহাসিক ব্যবহার: প্রাচীনকাল থেকে বার্তাবাহক হিসেবে পায়রার ব্যবহার বিশ্বজুড়ে প্রচলিত ছিল। যুদ্ধক্ষেত্র থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত বার্তা আদান-প্রদানে এদের অসাধারণ দিক নির্ণয় ক্ষমতাকে কাজে লাগানো হতো।
- সাংস্কৃতিক তাৎপর্য: বিভিন্ন সংস্কৃতিতে পায়রাকে পবিত্র পাখি হিসেবে গণ্য করা হয়। আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সাদা পায়রা উড়িয়ে শান্তির বার্তা দেওয়া একটি প্রচলিত রীতি।
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]- পায়রাখোপ
- পায়রাটুঙ্গি
- সুখের পায়রা
- জালালী কবুতর
প্রবাদ ও বাগধারা
[সম্পাদনা]- সুখের পায়রা: যে ব্যক্তি কেবল সুসময়ে পাশে থাকে, কিন্তু দুর্দিনে তাকে খুঁজে পাওয়া যায় না; সুদিনের বন্ধু।
- উদাহরণ: বিপদের সময় পাশে না পেয়ে বুঝলাম, সে ছিল আমার সুখের পায়রা মাত্র।