বিষয়বস্তুতে চলুন

নীলবর্ণা

উইকিঅভিধান, মুক্ত অভিধান থেকে

বাংলা

[সম্পাদনা]

উচ্চারণ

[সম্পাদনা]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

“নীলবর্ণা” শব্দটি গঠিত হয়েছে দুটি অংশ থেকে “নীল” এবং “বর্ণা”। “নীল” শব্দটি এসেছে সংস্কৃত “নীল” (नील) থেকে, যার অর্থ গাঢ় নীল, অন্ধকারাভ আকাশী বা সমুদ্রের ন্যায় গম্ভীর রং। “বর্ণা” এসেছে সংস্কৃত “বর্ণ” (वर्ण) শব্দ থেকে, যার অর্থ ‘রং’, ‘রূপ’, ‘আবরণ’ ইত্যাদি। এখানে “বর্ণা” স্ত্রীলিঙ্গ রূপ, যার দ্বারা কোনো রঙবিশিষ্ট বা রঙধারিণী নারী বা বস্তু বোঝানো হয়। ফলে “নীলবর্ণা” অর্থ দাঁড়ায় যার বর্ণ বা রূপ নীল; নীল রঙধারিণী নারী বা সত্তা।

বিশেষ্য / বিশেষণ

[সম্পাদনা]

নীলবর্ণা

  1. (বিশেষ্যরূপে) এমন কোনো নারী বা বস্তু যার গাত্রবর্ণ বা আভা নীল রঙের।
  2. (বিশেষণরূপে) নীলবর্ণসম্পন্ন; নীলাভ, নীল রঙের আবরণে ঢাকা।
  3. (সাহিত্যিক) শীতলতা, নীলিমা বা গাম্ভীর্যপূর্ণ রূপবিশিষ্ট নারীমূর্তি বা প্রকৃতির প্রতিচ্ছবি।

উদাহরণ

[সম্পাদনা]
  • সন্ধ্যার আকাশ যেন এক নীলবর্ণা দেবী।
  • পুরাণে বর্ণিত একটি নীলবর্ণা দেবীর রূপ অদ্বিতীয়।
  • তার শাড়ির নীলবর্ণা আভা যেন সমুদ্রের তরঙ্গ।

সমার্থক

[সম্পাদনা]
  • নীলিমা
  • নীলবর্ণধারিণী
  • গম্ভীরবর্ণা
  • আকাশবর্ণা

বিপরীত শব্দ

[সম্পাদনা]
  • কৃশ্ণবর্ণা (কালো রঙধারিণী)
  • শুভ্রবর্ণা (সাদা রঙধারিণী)
  • রক্তবর্ণা (লালবর্ণা)

উদ্ভূত

[সম্পাদনা]
  • “নীল” (সংস্কৃত) = গাঢ় নীল
  • “বর্ণ” (সংস্কৃত) = রং, রূপ
  • “বর্ণা” = রংধারিণী নারী বা বিশেষণ রূপে নারী নির্দেশক

ছোট ব্যাখ্যা

[সম্পাদনা]

“নীলবর্ণা” শব্দটি সাধারণত রূপকভাবে প্রকৃতি, রাত্রি, সমুদ্র, আকাশ বা দেবীরূপে কোনো সত্তাকে বোঝাতে ব্যবহৃত হয়, যার রঙ ও মেজাজ গাঢ় নীল ও গম্ভীর। এটি একদিকে যেমন দৃষ্টিনন্দন রূপ, তেমনি এক অন্তর্নিহিত শক্তি ও শীতলতারও প্রতীক।