নীতিজ্ঞানবর্জিত
অবয়ব
বাংলা
[সম্পাদনা]উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- আধ্বব(চাবি): /ni.t̪i.ɡæn.bor.dʒi.t̪o/
- ছন্দ: নী-তি-জ্ঞা-ন-ব-অ-র-জি-ত (স্বরবিন্যাস: দীর্ঘ নী, সংক্ষিপ্ত তি, দীর্ঘ জ্ঞা, সংক্ষিপ্ত ন, সংক্ষিপ্ত ব, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত র, সংক্ষিপ্ত জি, সংক্ষিপ্ত ত)। শব্দটির উচ্চারণে নয়টি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের নবস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে "নী" ও "জ্ঞা" দীর্ঘ স্বর হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- বানান: ন-ী-তি-জ্ঞা-ন-ব-অ-র-জি-ত। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "নীতিজ্ঞান" মূল শব্দ এবং "বর্জিত" প্রত্যয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[১]
বিশেষণ
[সম্পাদনা]নীতিজ্ঞানবর্জিত (তুলনাবাচক আরও নীতিজ্ঞানবর্জিত, অতিশয়ার্থবাচক সবচেয়ে নীতিজ্ঞানবর্জিত)
- যাঁর নীতিজ্ঞান বা নৈতিক বোধ নেই; নীতিবোধশূন্য; বিবেকবর্জিত।
- এমন নীতিজ্ঞানবর্জিত কাজের জন্য তাকে শাস্তি পেতে হবে।
ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]এটি একটি তৎসম (সংস্কৃত) শব্দ। শব্দটি নীতিজ্ঞান এবং বর্জিত এই দুটি পদের সংযোগে গঠিত একটি সমাসবদ্ধ পদ।
- নীতিজ্ঞান (নীতির জ্ঞান) – ভালো-মন্দ বিচার করার জ্ঞান, নৈতিক বোধ। এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
- বর্জিত (√বৃজ্ + ত) – যা ত্যাগ করা হয়েছে, পরিত্যক্ত, হীন, শূন্য।
সম্পূর্ণ পদটি একটি তৃতীয়া তৎপুরুষ সমাস (ব্যাসবাক্য: `নীতিজ্ঞান দ্বারা বর্জিত`)।
ব্যাকরণগত শ্রেণীবিন্যাস
[সম্পাদনা]- পদ: বিশেষণ।
- লিঙ্গ: পুংলিঙ্গ ও স্ত্রীলিঙ্গ উভয় ক্ষেত্রেই অপরিবর্তিত থাকে।
- (উদাহরণ: নীতিজ্ঞানবর্জিত ব্যক্তি, নীতিজ্ঞানবর্জিত সমাজ)।
- গঠন: সমাসবদ্ধ পদ। [২]
বাক্যে প্রয়োগ
[সম্পাদনা]- একজন নীতিজ্ঞানবর্জিত শাসকের হাতে দেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন।
- তাঁর মন্তব্যটি ছিল অত্যন্ত রুচিহীন এবং নীতিজ্ঞানবর্জিত।
টীকা
[সম্পাদনা]`নীতিজ্ঞানবর্জিত` একটি অত্যন্ত জোরালো ও আনুষ্ঠানিক শব্দ। `নীতিহীন` বলতে বোঝায় যিনি নীতি অনুসরণ করেন না, কিন্তু `নীতিজ্ঞানবর্জিত` বলতে বোঝায় যাঁর ভালো-মন্দের বোধ বা জ্ঞানই অনুপস্থিত। এটি একটি গভীরতর চারিত্রিক ত্রুটিকে নির্দেশ করে।
প্রতিশব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]নৈতিক বোধ নেই এমন