নিস্তেজতা
অবয়ব
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]"নিস্তেজতা" শব্দটি সংস্কৃত "নিস্তেজ" (জীবনহীন বা নিস্তেজ) এবং "তা" (অবস্থা নির্দেশক প্রত্যয়) থেকে গঠিত একটি বিশেষ্য। "নিস্তেজ" শব্দটি "নি" (নির্মূল) এবং "তেজ" (শক্তি বা জীবনশক্তি) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ শক্তি বা সতেজতার অভাব। বাংলায় এটি শারীরিক বা মানসিক নিস্তেজতা বোঝায়।[১]
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: নি-অ-স্ত-এ-জ-অ-ত-অ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত নি, সংক্ষিপ্ত অ, দীর্ঘ স্ত, দীর্ঘ এ, সংক্ষিপ্ত জ, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ত, সংক্ষিপ্ত অ)। শব্দটির উচ্চারণে আটটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের অষ্টস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে "স্ত" ও "এ" দীর্ঘ স্বর হিসেবে উল্লেখযোগ্য।
- বানান: নি-স্ত-এ-জ-তা। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "নিস্তেজ" মূল শব্দ এবং "তা" প্রত্যয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[২]
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]নিস্তেজতা
- নিস্তেজতা বা জীবনশূন্যতা: শক্তি বা সতেজতার অভাব, যা শারীরিক বা মানসিকভাবে প্রকাশ পায়।
- উদাহরণ: তার চোখে নিস্তেজতা দেখা যাচ্ছে।
- উদাহরণ: বর্ষার পর এই নিস্তেজতা প্রকৃতিকে আচ্ছন্ন করেছে।
- উদাহরণ: নিস্তেজতা তার কণ্ঠে ফুটে উঠেছে।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"নিস্তেজতা" শব্দটি বাংলায় শক্তিহীনতা বা জীবনশূন্যতার একটি গভীর অবস্থা নির্দেশ করে, যা প্রকৃতি, মানুষ বা পরিবেশের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে। এটি প্রায়ই ক্লান্তি, দুঃখ বা উৎসাহের অভাবের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, নিস্তেজতা মানসিক অবসাদ বা প্রকৃতির শান্তির প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখিত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি শারীরিক স্বাস্থ্যের দুর্বলতা বা মানসিক অবস্থার সাথে যুক্ত।[৩]
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]নিস্তেজতা বা জীবনশূন্যতা
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
- বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, রবীন্দ্ররচনাবলী, কলকাতা, ১৯৩৭।