তাড়াহুড়াকারী
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]"তাড়াহুড়াকারী" শব্দটি বাংলা ও সংস্কৃত মিশ্রণ থেকে গঠিত, যেখানে "তাড়া" (দ্রুততা বা ত্বরা) ও "হুড়া" (তাড়াহাড়া বা ব্যস্ততা) একত্রে "তাড়াহুড়া" রূপে প্রচলিত, এবং "কারী" প্রত্যয়টি ব্যক্তিকে নির্দেশ করে। "তাড়া" সংস্কৃত "তাড়ন" থেকে এসেছে, যার অর্থ ধাক্কা বা ত্বরণ, আর "হুড়া" বাংলা কথ্য ভাষা থেকে উদ্ভূত একটি উপসর্গ। বাংলায় এটি দ্রুত ও অগোছালো কাজকর্মে প্রবৃত্ত ব্যক্তিকে বোঝায়।[১]
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: ত-আ-উ-অ-ক-অ-ই (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত ত, দীর্ঘ আ, সংক্ষিপ্ত উ, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ক, সংক্ষিপ্ত অ, দীর্ঘ ই)। শব্দটির উচ্চারণে সাতটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের সপ্তস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে স্বরগুলোর সংক্ষিপ্ততা ও দীর্ঘতা নিয়মিতভাবে বিন্যস্ত।
- বানান: ত-া-ড়-া-হু-ড়-া-কা-রী। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "ড়" ও "হু" পৃথক অক্ষর, "কা" ও "রী" দীর্ঘ স্বর সহ যুক্তাক্ষর। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[২]
বিশেষণ
[সম্পাদনা]তাড়াহুড়াকারী (তুলনাবাচক আরও তাড়াহুড়াকারী, অতিশয়ার্থবাচক সবচেয়ে তাড়াহুড়াকারী)
- দ্রুত ও অগোছালো কাজে প্রবৃত্ত: কোনো ব্যক্তি যে ত্বরা ও ব্যস্ততায় কাজ করে, প্রায়ই অসংগতি সৃষ্টি করে।
- উদাহরণ: তিনি একজন তাড়াহুড়াকারী প্রকৃতির মানুষ।
- উদাহরণ: তার তাড়াহুড়াকারী আচরণ কাজে ভুল ডেকে আনে।
- উদাহরণ: বাজারে তাড়াহুড়াকারী লোকজন দেখা যায়।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"তাড়াহুড়াকারী" শব্দটি একজন ব্যক্তির দ্রুততা ও ব্যস্ততার প্রকাশ, যা প্রায়ই পরিকল্পনাহীনতা বা অসংগতির সাথে যুক্ত। এটি দৈনন্দিন জীবনে সাধারণ, বিশেষ করে শহুরে পরিবেশে, যেখানে সময়ের চাপ বেশি। বাংলা সাহিত্যে, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায় এই ধরনের চরিত্র চিত্রিত হয়েছে জীবনের ত্বরিত গতির প্রতীক হিসেবে। আধুনিক সময়ে, এটি প্রযুক্তির দ্রুততার সাথে সম্পর্কিত হতে পারে।[৩]
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]- তাড়া (দ্রুততা)
- হুড়োহুড়ি (ব্যস্ততা)
- কারী (কর্তা)
অর্থ
[সম্পাদনা]দ্রুত ও অগোছালো কাজে প্রবৃত্ত
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
- বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গৃহপ্রবেশ, কলকাতা, ১৯১৪।