বিষয়বস্তুতে চলুন

তাড়া

উইকিঅভিধান, মুক্ত অভিধান থেকে

বাংলা

[সম্পাদনা]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

"তাড়া" শব্দটি সংস্কৃত "তাড়ন" (ধাক্কা দেওয়া বা ত্বরণ) থেকে উদ্ভূত, যা বাংলায় ক্রিয়া ও বিশেষ্য রূপে প্রচলিত। এটি "তাড়" মূল থেকে গঠিত, যার অর্থ দ্রুত গতি বা ত্বরা, এবং "আ" প্রত্যয়ে বিশেষ্য রূপে রূপান্তরিত হয়েছে। বাংলায় এই শব্দটি কোনো কাজে ত্বরা বা সময়ের চাপ নির্দেশ করে।[]

উচ্চারণ

[সম্পাদনা]
  • ছন্দ: ত-আ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত ত, দীর্ঘ আ)। শব্দটির উচ্চারণে দুটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যেখানে প্রথম স্বর সংক্ষিপ্ত এবং দ্বিতীয় স্বর দীর্ঘ। এটি বাংলা শব্দের দ্বিস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে।
  • বানান: ত-আ-ড়-া। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "ড়" কড়ি হরফ এবং "া" দীর্ঘ স্বর। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই, তবে কথ্য ভাষায় মাঝে মাঝে "তাড়া" ও "তাড়" একে অপরের সাথে ব্যবহৃত হয়।[]

বিশেষ্য

[সম্পাদনা]

তাড়া

  1. ত্বরা বা দ্রুততার অবস্থা: কোনো কাজে সময়ের চাপে দ্রুত করার প্রক্রিয়া।
    • উদাহরণ: কাজ শেষ করতে তার তাড়া ছিল।
    • উদাহরণ: পরীক্ষার তাড়ায় সে রাত কাটাল।
    • উদাহরণ: বাজারে তাড়ার মধ্যে সব কিনে ফেললাম।

বিস্তারিত তথ্য

[সম্পাদনা]

"তাড়া" শব্দটি কোনো কাজে দ্রুততা বা সময়ের সীমার মধ্যে সমাপ্তির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। এটি প্রায়ই দৈনন্দিন জীবনে ব্যস্ততা বা উদ্বেগের সাথে যুক্ত হয়। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, "তাড়া" শব্দটি জীবনের ত্বরিত গতি ও সময়ের মূল্যবোধের প্রতীক হিসেবে উল্লেখিত হয়। আধুনিক প্রেক্ষাপটে, এটি শিক্ষা, কাজ বা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে সময়ের চাপ বোঝাতে ব্যবহৃত হয়।[]

সমার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

বিপরীতার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

সম্পর্কিত শব্দ

[সম্পাদনা]

ত্বরা বা দ্রুততার অবস্থা

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  • সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
  • বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গোরা, কলকাতা, ১৯১০।
  1. সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা ৬৭৮
  2. বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, পৃষ্ঠা ৫৮৩
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গোরা, পৃষ্ঠা ১৯৮