বিষয়বস্তুতে চলুন

তাচ্ছিল্যপূর্ণ

উইকিঅভিধান, মুক্ত অভিধান থেকে

বাংলা

[সম্পাদনা]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

"তাচ্ছিল্যপূর্ণ" শব্দটি সংস্কৃত "তাচ্ছিল্য" (অবজ্ঞা বা ঔদাসীন্য) এবং "পূর্ণ" (সম্পূর্ণ বা ভরপূর) থেকে গঠিত একটি বিশেষণ। "তাচ্ছিল্য" শব্দটি "তচ্ছ" (নিম্ন) এবং "ঈল্য" (মর্যাদা বা গ্রহণযোগ্যতা) থেকে উদ্ভূত, যা কিছুকে হেয় বা তুচ্ছ মনে করার ভাব বোঝায়। "পূর্ণ" যোগে এটি এই অবজ্ঞার সম্পূর্ণতা নির্দেশ করে। বাংলায় এটি কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি ঔদাসীন্য বা অবহেলা প্রকাশ করে।[]

উচ্চারণ

[সম্পাদনা]
  • ছন্দ: ত-অ-চ-অ-ল-ল-অ-পু-অ-ন-অ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত ত, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত চ, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ল, সংক্ষিপ্ত ল, সংক্ষিপ্ত অ, দীর্ঘ পু, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ন, সংক্ষিপ্ত অ)। শব্দটির উচ্চারণে একাদশটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের একাদশস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে "পু" দীর্ঘ স্বর হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ।
  • বানান: তা-চ-ছি-ল-ল-্য-পূ-র্ণ। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "তাচ্ছিল্য" মূল শব্দ এবং "পূর্ণ" প্রত্যয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[]

বিশেষণ

[সম্পাদনা]

তাচ্ছিল্যপূর্ণ (তুলনাবাচক আরও তাচ্ছিল্যপূর্ণ, অতিশয়ার্থবাচক সবচেয়ে তাচ্ছিল্যপূর্ণ)

  1. অবজ্ঞাপূর্ণ বা ঔদাসীন্যপূর্ণ: কোনো ব্যক্তি বা আচরণ যা অবহেলা বা তুচ্ছতা প্রকাশ করে।
    • উদাহরণ: তার তাচ্ছিল্যপূর্ণ আচরণ সবাইকে বিরক্ত করল।
    • উদাহরণ: এই উত্তর তাচ্ছিল্যপূর্ণ বলে মনে হয়।
    • উদাহরণ: তিনি তাচ্ছিল্যপূর্ণ ভাবে প্রশ্নটি উপেক্ষা করলেন।

বিস্তারিত তথ্য

[সম্পাদনা]

"তাচ্ছিল্যপূর্ণ" শব্দটি বাংলায় কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর প্রতি অবজ্ঞা বা ঔদাসীন্যের ভাব নির্দেশ করে, যা সামাজিক সম্পর্কে বিষমতা সৃষ্টি করতে পারে। এটি প্রায়ই সংস্কৃতির মূল্যবোধ বা সম্মানের প্রতি অবহেলার সাথে যুক্ত। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনায়, এই ধরনের আচরণের প্রভাব চিত্রিত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি ব্যক্তিগত ও পেশাগত ক্ষেত্রে সম্পর্কের মধ্যে দ্বন্দ্ব সৃষ্টির কারণ হতে পারে।[]

সমার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

বিপরীতার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

সম্পর্কিত শব্দ

[সম্পাদনা]

অবজ্ঞাপূর্ণ বা ঔদাসীন্যপূর্ণ

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  • সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
  • বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
  • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত, কলকাতা, ১৯১৭।
  1. সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা ৮৩২
  2. বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, পৃষ্ঠা ৬৮৯
  3. শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, শ্রীকান্ত, পৃষ্ঠা ২০৩