কর্মস্পৃহা
অবয়ব
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]"কর্মস্পৃহা" শব্দটি সংস্কৃত "কর্ম" (কাজ) এবং "স্পৃহা" (আকর্ষণ বা আগ্রহ) থেকে গঠিত, যা বাংলায় বিশেষ্য রূপে প্রচলিত। "স্পৃ" মূলটি আকর্ষণ বা ইচ্ছা নির্দেশ করে, এবং "হা" প্রত্যয়ে এটি গভীর আগ্রহের অর্থ লাভ করে। বাংলায় এই শব্দটি কাজে উৎসাহ বা কর্মপ্রতি আকর্ষণ বোঝায়।[১]
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: ক-অ-অ-ই-আ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত ক, দীর্ঘ অ, সংক্ষিপ্ত অ, দীর্ঘ ই, দীর্ঘ আ)। শব্দটির উচ্চারণে পাঁচটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের পঞ্চস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে প্রথম স্বর সংক্ষিপ্ত, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্বর দীর্ঘ, এবং চতুর্থ ও পঞ্চম স্বর দীর্ঘ।
- বানান: ক-র্ম-স্-পৃ-হা। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "র্ম" যুক্তাক্ষর, "স্পৃ" সংযুক্ত অক্ষর, এবং "হা" দীর্ঘ স্বর সহ স্বাধীন অক্ষর। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[২]
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]কর্মস্পৃহা
- কাজে উৎসাহ বা আকর্ষণের অবস্থা: কোনো কাজে গভীর আগ্রহ বা কর্মক্ষমতার প্রবৃত্তি।
- উদাহরণ: তার কর্মস্পৃহা সকলকে প্রভাবিত করেছে।
- উদাহরণ: যুবকদের মধ্যে কর্মস্পৃহা জাগ্রত করা প্রয়োজন।
- উদাহরণ: নতুন প্রকল্পে তার কর্মস্পৃহা লক্ষণীয়।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"কর্মস্পৃহা" শব্দটি কাজে উৎসাহ, আগ্রহ বা কর্মপ্রতি আকর্ষণ নির্দেশ করে, যা ব্যক্তিগত উন্নতি ও সমাজের কল্যাণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, এই শব্দটি কর্মযোগের সাথে যুক্ত হয়ে জীবনের উৎসাহের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক প্রেক্ষাপটে, এটি কর্মসংস্কৃতির উন্নতি ও প্রযুক্তিগত উৎপাদনশীলতার সাথে সম্পর্কিত।[৩]
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]কাজে উৎসাহ বা আকর্ষণের অবস্থা
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
- বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গীতাঞ্জলি, কলকাতা, ১৯১০।