কর্মপ্রবণতা
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]"কর্মপ্রবণতা" শব্দটি সংস্কৃত "কর্ম" (কাজ বা ক্রিয়া) এবং "প্রবণতা" (ঝোঁক বা প্রবণতা) থেকে গঠিত একটি বিশেষ্য। "কর্ম" শব্দটি "কৃ" (করা) ধাতু থেকে উদ্ভূত, যা কার্যকলাপ নির্দেশ করে, এবং "প্রবণতা" "প্র" (অগ্রগতি) এবং "বণ" (ঝোঁক) থেকে গঠিত। বাংলায় এটি কাজের প্রতি স্বাভাবিক ঝোঁক বা আগ্রহ নির্দেশ করে।[১]
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: ক-অ-র-ম-অ-প-র-অ-ব-অ-ন-অ-ত-অ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত ক, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত র, সংক্ষিপ্ত ম, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত প, সংক্ষিপ্ত র, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ব, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ন, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ত, সংক্ষিপ্ত অ)। শব্দটির উচ্চারণে চোদ্দোটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের চতুর্দশস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে সব স্বর সংক্ষিপ্ত।
- বানান: ক-র-ম-প-র-ব-ন-তা। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "কর্ম" মূল শব্দ এবং "প্রবণতা" প্রত্যয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[২]
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]কর্মপ্রবণতা
- কাজের প্রতি ঝোঁক বা আগ্রহ: কার্যকলাপে অংশগ্রহণের প্রবণতা বা স্বাভাবিক আকর্ষণ।
- উদাহরণ: তার কর্মপ্রবণতা সবাইকে প্রভাবিত করে।
- উদাহরণ: কর্মপ্রবণতা তার সফলতার মূল কারণ।
- উদাহরণ: এই সম্প্রদায়ে কর্মপ্রবণতা প্রচুর দেখা যায়।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"কর্মপ্রবণতা" শব্দটি বাংলায় কাজের প্রতি স্বাভাবিক আগ্রহ বা কার্যকলাপের প্রতি ঝোঁক নির্দেশ করে, যা ব্যক্তিগত উন্নতি, সমাজের উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের সাথে যুক্ত। এটি শ্রমিক শ্রেণি, শিক্ষিত সম্প্রদায় এবং পেশাদারদের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, কর্মপ্রবণতা জীবনের গতিশীলতা ও সৃষ্টিশীলতার প্রতীক হিসেবে উল্লেখিত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি কর্মসংস্কৃতি, উদ্যোগশীলতা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সম্পর্কিত। এছাড়া, মনোবিজ্ঞানে এটি ব্যক্তির মানসিক সক্রিয়তা ও প্রেরণার একটি মাপক হিসেবে গণ্য হয়।[৩][৪]
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]কাজের প্রতি ঝোঁক বা আগ্রহ
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
- বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গীতবিতান, কলকাতা, ১৯৩১।
- মনোবিজ্ঞান ও ব্যক্তিত্ব, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশনা, ২০২২।