বিষয়বস্তুতে চলুন

আলাদাকরণ

উইকিঅভিধান, মুক্ত অভিধান থেকে

বাংলা

[সম্পাদনা]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

"আলাদাকরণ" শব্দটি বাংলা ও সংস্কৃত প্রভাবে গঠিত, যেখানে "আলাদা" (পৃথক বা বিভিন্ন) এবং "করণ" (করণ প্রক্রিয়া বা কাজ) একত্রিত হয়েছে। "আলাদা" শব্দটি "আ" (উপসর্গ) এবং "লাদ" (আঁট করা বা সংযুক্ত) থেকে উদ্ভূত, যার বিপরীতার্থক অর্থ হিসেবে "পৃথকীকরণ" বোঝায়। বাংলায় এটি কোনো বস্তু বা মানুষকে আলাদা করার ক্রিয়া বা অবস্থা নির্দেশ করে।[]

উচ্চারণ

[সম্পাদনা]
  • ছন্দ: আ-ল-অ-দ-অ-ক-অ-র-অ-ন (স্বরবিন্যাস: দীর্ঘ আ, সংক্ষিপ্ত ল, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত দ, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ক, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত র, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ন)। শব্দটির উচ্চারণে দশটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের দশস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে প্রথম স্বর দীর্ঘ।
  • বানান: আ-লা-দা-ক-র-ণ। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "আলাদা" মূল শব্দ এবং "করণ" প্রত্যয়। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[]

বিশেষ্য

[সম্পাদনা]

আলাদাকরণ

  1. বিভাজন বা পৃথকীকরণ: কোনো বস্তু, মানুষ বা ধারণাকে আলাদা করার ক্রিয়া।
    • উদাহরণ: আলাদাকরণের ফলে দুই গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গেল।
    • উদাহরণ: রাসায়নিক আলাদাকরণে বিভিন্ন উপাদান পৃথক করা যায়।
    • উদাহরণ: তাদের মধ্যে আলাদাকরণ অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।

বিস্তারিত তথ্য

[সম্পাদনা]

"আলাদাকরণ" শব্দটি বাংলায় কোনো একত্রিত বস্তু বা সম্পর্ককে ভাগ করার প্রক্রিয়া বা ফলাফল নির্দেশ করে, যা সামাজিক, বৈজ্ঞানিক বা ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপটে প্রযোজ্য। এটি বিভিন্নতা সৃষ্টি বা দূরত্ব তৈরির প্রতীক হিসেবে কাজ করে। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, আলাদাকরণ মানুষের মধ্যে বিচ্ছেদের প্রভাব উল্লেখিত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি বৈজ্ঞানিক গবেষণা (যেমন রাসায়নিক বিশ্লেষণ) এবং সামাজিক বিভাজন উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।[]

সমার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

বিপরীতার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

সম্পর্কিত শব্দ

[সম্পাদনা]

বিভাজন বা পৃথকীকরণ

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  • সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
  • বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গীতাঞ্জলি, কলকাতা, ১৯১০।
  1. সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা ৭১৫
  2. বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, পৃষ্ঠা ৫৯২
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গীতাঞ্জলি, পৃষ্ঠা ১২৩