বিষয়বস্তুতে চলুন

আযমত

উইকিঅভিধান, মুক্ত অভিধান থেকে

বাংলা

[সম্পাদনা]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

"আযমত" শব্দটি আরবি "عزم" (ʿazm) থেকে উদ্ভূত, যার অর্থ দৃঢ় সংকল্প বা প্রতিজ্ঞা। বাংলায় এটি উর্দু ও ফারসি প্রভাবে প্রবেশ করেছে এবং ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য বা লক্ষ্যের প্রতি অটলতা বোঝায়। শব্দটি বাংলা সাহিত্যে এবং কথ্য ভাষায় প্রচলিত হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে ইসলামী প্রেক্ষাপটে।[]

উচ্চারণ

[সম্পাদনা]
  • ছন্দ: আ-অ-ঝ-অ-ত-অ (স্বরবিন্যাস: দীর্ঘ আ, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ঝ, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ত, সংক্ষিপ্ত অ)। শব্দটির উচ্চারণে ছয়টি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের ষাটস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে প্রথম স্বর দীর্ঘ এবং বাকি সব সংক্ষিপ্ত।
  • বানান: আ-য-ম-ত। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "আ" দীর্ঘ স্বর, "য" ও "ম" পৃথক অক্ষর, এবং "ত" উচ্চারিত ধ্বনি। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[]

বিশেষ্য

[সম্পাদনা]

আযমত

  1. দৃঢ় সংকল্প বা প্রতিজ্ঞা: কোনো লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য অটল মনোভাব।
    • উদাহরণ: তার আযমত সকল প্রতিকূলতার জয় করেছে।
    • উদাহরণ: এই কাজে সফল হওয়ার আযমত তার মধ্যে রয়েছে।
    • উদাহরণ: আযমতের সাথে কঠোর পরিশ্রম জীবনকে সফল করে।

বিস্তারিত তথ্য

[সম্পাদনা]

"আযমত" শব্দটি বাংলা ভাষায় দৃঢ়তা ও সংকল্পের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, বিশেষ করে ধর্মীয় ও নৈতিক প্রেক্ষাপটে। এটি একজন ব্যক্তির মানসিক শক্তি ও লক্ষ্যে অটলতাকে নির্দেশ করে, যা প্রায়ই জীবনের কঠিন পরীক্ষায় কাজে লাগে। বাংলা সাহিত্যে এই শব্দটি কবিতা ও প্রবন্ধে ব্যবহৃত হয়েছে, যেমন কাজী নজরুল ইসলামের রচনায়। আধুনিক সময়ে, এটি ব্যক্তিগত উন্নতি ও সংগ্রামের সাথে সম্পর্কিত।[]

সমার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

বিপরীতার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

সম্পর্কিত শব্দ

[সম্পাদনা]

দৃঢ় সংকল্প বা প্রতিজ্ঞা

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  • আরবি-বাংলা অভিধান, ঢাকা, ২০২২।
  • বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
  • কাজী নজরুল ইসলাম, রূপবানী, কলকাতা, ১৯৩০।
  1. আরবি-বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা ৪৫৬
  2. বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, পৃষ্ঠা ৩২১
  3. কাজী নজরুল ইসলাম, রূপবানী, পৃষ্ঠা ১৪৮