অসংযোগ
অবয়ব
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]"অসংযোগ" শব্দটি সংস্কৃত "সংযোগ" (সংযুক্তি বা যোগ) থেকে উদ্ভূত, যার সাথে "অ" উপসর্গ যোগ হয়ে নেতিবাচক অর্থ সৃষ্টি করে। "সং" উপসর্গটি একত্রকরণ নির্দেশ করলেও, "অ" এর সংযোজন এর বিপরীত অর্থ—বিচ্ছিন্নতা বা পৃথকতা—প্রকাশ করে। বাংলায় এই শব্দটি কোনো সম্পর্ক, যোগাযোগ বা সংযোগের অনুপস্থিতি বোঝায়।[১]
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: অ-অ-এ-ও (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত অ, দীর্ঘ অ, দীর্ঘ এ, দীর্ঘ ও)। শব্দটির উচ্চারণে চারটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যেখানে প্রথম স্বর সংক্ষিপ্ত, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্বর দীর্ঘ, এবং চতুর্থ স্বর দীর্ঘ। এটি বাংলা শব্দের চতুঃস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে।
- বানান: অ-স-ং-যো-গ। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "ং" নাসিক্য ধ্বনি, "যো" যুক্তাক্ষর হিসেবে গঠিত, এবং "গ" স্বাধীন অক্ষর। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[২]
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]অসংযোগ
- সম্পর্ক বা যোগাযোগের অনুপস্থিতি: কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা বিষয়ের মধ্যে সংযোগ বা সম্পর্কের অভাব।
- উদাহরণ: তাদের মধ্যে অসংযোগ সামাজিক সমস্যা সৃষ্টি করেছে।
- উদাহরণ: বিদ্যুতের অসংযোগ গ্রামে দুঃস্থি সৃষ্টি করেছে।
- উদাহরণ: মনের গভীরে একটি অসংযোগ অনুভব করছি।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"অসংযোগ" শব্দটি কোনো সম্পর্ক, যোগাযোগ বা সংযোগের বিচ্ছিন্নতা বা পৃথকতা নির্দেশ করে। এটি সামাজিক, প্রযুক্তিগত বা আবেগগত প্রেক্ষাপটে ব্যবহৃত হয়, যেমন পরিবারে দূরত্ব, ইন্টারনেট সংযোগের ভাঙন, বা মানসিক বিচ্ছেদ। বাংলা সাহিত্যে এই শব্দটি কখনো কখনো একাকিত্ব বা বিষণ্ণতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক কনটেক্সটে, ডিজিটাল যুগে "অসংযোগ" প্রায়ই টেকনোলজির সাথে সম্পর্কিত সমস্যাকে বোঝায়।[৩]
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]অর্থ
[সম্পাদনা]সম্পর্ক বা যোগাযোগের অনুপস্থিতি
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
- বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
- জীবনানন্দ দাশ, শেষ সপ্তক, কলকাতা, ১৯৫১।