অসংকল্প
অবয়ব
বাংলা
[সম্পাদনা]ব্যুৎপত্তি
[সম্পাদনা]"অসংকল্প" শব্দটি সংস্কৃত "সংকল্প" (দৃঢ় উদ্দেশ্য বা সিদ্ধান্ত) এবং "অ" উপসর্গ (বিপরীতত্ব নির্দেশক) থেকে গঠিত। "সংকল্প" শব্দটি "সম" (সঙ্গে) এবং "কল্প" (চিন্তা বা উদ্দেশ্য) থেকে উদ্ভূত, যা মনের দৃঢ়তা বোঝায়। "অ" যোগে এটি সেই দৃঢ়তার অভাব বা অনিশ্চয়তা নির্দেশ করে। বাংলায় এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা বা দুর্বলতাকে ব্যক্ত করে।[১]
উচ্চারণ
[সম্পাদনা]- ছন্দ: অ-অ-ঙ-ক-অ-ল-প-অ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত অ, নাসিক্য ঙ, সংক্ষিপ্ত ক, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ল, সংক্ষিপ্ত প, সংক্ষিপ্ত অ)। শব্দটির উচ্চারণে আটটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের অষ্টস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে সব স্বর সংক্ষিপ্ত।
- বানান: অ-স-ং-ক-ল-প। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "অ" উপসর্গ, "সং" যুক্তাক্ষর, এবং "কল্প" মূল শব্দ। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[২]
বিশেষ্য
[সম্পাদনা]অসংকল্প
- সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা বা দুর্বলতা: কোনো কাজ বা লক্ষ্য নির্ধারণে অস্থিরতা বা অনিশ্চয়।
- উদাহরণ: তার অসংকল্প জীবনে বাধা সৃষ্টি করে।
- উদাহরণ: অসংকল্পের কারণে সে কাজ শুরু করতে পারেনি।
- উদাহরণ: আত্মবিশ্বাসের অভাব থেকে অসংকল্প জন্মায়।
বিস্তারিত তথ্য
[সম্পাদনা]"অসংকল্প" শব্দটি বাংলায় মানসিক দুর্বলতা বা অনিশ্চয়তার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, যা কোনো ব্যক্তিকে লক্ষ্য অর্জনে বাধা দেয়। এটি প্রায়ই জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে দ্বিধা বা অস্থিরতার সাথে যুক্ত। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, এই ধরনের মানসিক অবস্থা চরিত্র চিত্রণে উল্লেখিত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি ব্যক্তিগত উন্নতির জন্য একটি বাধা হিসেবে বিবেচিত।[৩]
সমার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]বিপরীতার্থক শব্দ
[সম্পাদনা]সম্পর্কিত শব্দ
[সম্পাদনা]- সংকল্প (দৃঢ় উদ্দেশ্য)
- অস্থিরতা (অস্থির মনোভাব)
- আত্মবিশ্বাস (আত্মবিশ্বাস)
অর্থ
[সম্পাদনা]সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা বা দুর্বলতা
তথ্যসূত্র
[সম্পাদনা]- সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
- বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
- রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গোরা, কলকাতা, ১৯১০।