বিষয়বস্তুতে চলুন

অনাগ্রহ

উইকিঅভিধান, মুক্ত অভিধান থেকে

বাংলা

[সম্পাদনা]

ব্যুৎপত্তি

[সম্পাদনা]

"অনাগ্রহ" শব্দটি সংস্কৃত "অ" (বিপরীতত্ব) এবং "আগ্রহ" (আকর্ষণ বা ইচ্ছা) থেকে গঠিত একটি বিশেষ্য। "আগ্রহ" শব্দটি "আ" (উপসর্গ) এবং "গ্রহ" (গ্রহণ বা আকর্ষণ) থেকে উদ্ভূত, যার বিপরীতার্থক "অ" দ্বারা অনিচ্ছা বা অনাদর বোঝায়। বাংলায় এটি কোনো কাজ বা পরিস্থিতির প্রতি আকর্ষণহীনতা নির্দেশ করে।[]

উচ্চারণ

[সম্পাদনা]
  • ছন্দ: অ-ন-অ-গ-র-অ-হ-অ (স্বরবিন্যাস: সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত ন, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত গ, সংক্ষিপ্ত র, সংক্ষিপ্ত অ, সংক্ষিপ্ত হ, সংক্ষিপ্ত অ)। শব্দটির উচ্চারণে আটটি স্বরধ্বনি রয়েছে, যা বাংলা শব্দের অষ্টস্বরিক ছন্দ প্রকাশ করে, যেখানে সব স্বর সংক্ষিপ্ত।
  • বানান: অ-না-গ্র-হ। শব্দটি বাংলা বানানের নিয়ম অনুযায়ী লেখা হয়, যেখানে "অ" উপসর্গ, "আগ্রহ" মূল শব্দ। বাংলা একাডেমির বানান নিয়ম অনুসারে এই শব্দের কোনো বিকল্প বানান নেই।[]

বিশেষ্য

[সম্পাদনা]

অনাগ্রহ

  1. অনিচ্ছা বা আকর্ষণহীনতা: কোনো কাজ বা পরিস্থিতির প্রতি দ্বিধা বা অনাদর।
    • উদাহরণ: তার অনাগ্রহ দেখে সবাই অবাক।
    • উদাহরণ: এই কাজে তার অনাগ্রহ লক্ষণীয়।
    • উদাহরণ: অনাগ্রহের কারণে সে প্রস্তাবটি উপেক্ষা করল।

বিস্তারিত তথ্য

[সম্পাদনা]

"অনাগ্রহ" শব্দটি বাংলায় কোনো কাজ বা পরিস্থিতির প্রতি আকর্ষণ বা উৎসাহের অভাব নির্দেশ করে, যা মানসিক অবস্থা বা ব্যক্তিগত পছন্দের সাথে যুক্ত। এটি প্রায়ই দ্বিধা বা অনিশ্চয়তার সাথে সম্পর্কিত। বাংলা সাহিত্যে, বিশেষ করে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের রচনায়, অনাগ্রহ মানসিক দ্বন্দ্ব বা আত্মপরিচয়ের প্রতিফলন হিসেবে উল্লেখিত হয়। আধুনিক সময়ে, এটি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দ্বিধা বা অপ্রত্যাশিত অবস্থার প্রকাশ হতে পারে।[]

সমার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

বিপরীতার্থক শব্দ

[সম্পাদনা]

সম্পর্কিত শব্দ

[সম্পাদনা]

অনিচ্ছা বা আকর্ষণহীনতা

তথ্যসূত্র

[সম্পাদনা]
  • সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, কলকাতা, ২০১৯।
  • বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, ঢাকা, ২০২০।
  • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গল্পগুচ্ছ, কলকাতা, ১৯১২।
  1. সংস্কৃত-বাংলা অভিধান, পৃষ্ঠা ৫৬৩
  2. বাংলা একাডেমি বানান অভিধান, পৃষ্ঠা ৪৭৮
  3. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, গল্পগুচ্ছ, পৃষ্ঠা ২৪৫